দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ অপসারণের কাজ শুরু করেছে পৌরসভা। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে চত্বরটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে সড়কের মাঝখানে নির্মিত চত্বরটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নামে পরিচিত হলেও সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য বা অবয়ব ছিল না। সেখানে একটি বড় পাথর স্থাপন করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরটি চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত করায় মোড়ে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হতো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ত। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গার বাসচালক আবির মাহমুদ বলেন, ‘এই পাথরের কারণে মোড়ে গাড়ি ঘোরাতে অনেক সমস্যা হতো। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এটি সরিয়ে দিলে যাতায়াত সহজ হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় চত্বরটি ঘিরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও বেড়েছিল। টার্মিনালের সময় নিয়ন্ত্রক আবু জাফরের দাবি, সেখানে প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ এবং সন্ধ্যার পর মাদকসেবনের ঘটনা ঘটত, যা পথচারীদের জন্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান জানান, ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ এবং তৎকালীন পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু চত্বরটির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটির জন্য মোট ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রাথমিকভাবে ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু করা হলেও পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। বর্তমানে ভাস্কর্য নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পের ফাইলটি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘জনদুর্ভোগ কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধের পর চত্বরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় সে সময় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এখন সম্ভবত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য নির্মাণ হচ্ছে বা ছিল—এমন তথ্য আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
এমএম/